Recent Updates
Tag

চাকরির প্রস্তুতি

Browsing

বাংলাদেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় জেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর । কয়েকটি উপজেলা নিয়ে একটি জেলা গঠিত হয় যা আবার একটি বিভাগের আওতায় থাকে । প্রশাসনিকভাবে একটি জেলা একটি বিভাগের অধিক্ষেত্রভুক্ত।

বিভিন্ন চাররীর পরীক্ষার জন্য জেলাগুলোর নাম মনে রাখা খুব কষ্টসাধ্য বেপার। কিন্তু কিছু টেকনিক বা কৌশলের মাধ্যমে সহজেই জেলাগুলোর নাম ও বিভাগ মনে রাখা যায়।

বাংলাদেশে মোট ৮টি বিভাগ আছে। এগুলো হল:

১. ঢাকা  ২.চট্টগ্রাম ৩. সিলেট  ৪. রাজশাহী  ৫.রংপুর ৬.খুলনা  ৭ . বরিশাল ও  ৮.ময়মনসিংহ.

এবং মোট জেলার সংখ্যা ৬৪টি।

আসুন জেনে নেই বিস্তারিত জেলার নামগুলো- বিভাগ অনুযায়ীঃ 

বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার নাম

বিভাগজেলা
চট্টগ্রামকুমিল্লা, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাঙ্গামাটি, নোয়াখালী, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার,

খাগড়াছড়ি, বান্দরবান

রাজশাহীসিরাজগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া, রাজশাহী, নাটোর, জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ
খুলনাযশোর, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝিনাইদহ
বরিশালঝালকাঠি, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বরিশাল, ভোলা, বরগুনা
সিলেটসিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ
ঢাকানরসিংদী, গাজীপুর, শরীয়তপুর, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ঢাকা,

মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর

রংপুরপঞ্চগড়, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, কুড়িগ্রাম
ময়মনসিংহশেরপুর, ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোণা

মনে রাখার চিন্তা আর না, এই লেখাটিতে বেশ কিছু কৌশল বা টেকনিকের মাধ্যমে দেখানো হবে আপনি কিভাবে পরীক্ষা বা জানার জন্য সহজেই বাংলাদেশের ৮টি বিভাগের মোট ৬৪ জেলার নাম আয়ত্ত করে নিতে পারেন।

আওরা এখানে কয়েকটি কৌশল শিখিয়ে দেবো, আপনি এর মধ্যে যেকোন একটি কৌশলের মধ্যেমে মনে রাখতে পারেন। কারন আমরা বিশ্বাস করি একই কৌশল সবার জন্যে উপযুক্ত নাও হতে পারে।

বাংলাদেশের ৮টি বিভাগের ৬৪ জেলার নাম মনে রাখার অব্যর্থ কৌশলঃ

আমরা ইন্টারনেটের বিভিন্ন উৎস, লেখক ও গবেষকের লেখা থেকে আপনার জন্য কিছু নির্দিষ্ট কৌশল বা টেকনিক সংগ্রহ করে এই ব্লগে সংযোজন করেছি যাতে আপনার স্মৃতিতে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার নাম এমনভাবে গেঁথে নিতে পারেন, যেকোনো সময় যেকোনো পরীক্ষায় শতভাগ আত্মবিশ্বাসের সাথে সঠিক উত্তর করতে পারেন।

৬৪ জেলার নাম মনে রাখার সহজ কৌশল-বাংলা নোট বই
৬৪ জেলার নাম মনে রাখার সহজ কৌশল

রংপুর বিভাগের জেলা সমূহের নামঃ 

বিভাগ- রংপুর,  প্রতিষ্ঠিত হয়- ২০১০ সালে । মোট জেলার সংখা ৮টি।

পঞ্চগড়, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, কুড়িগ্রাম।

মনে রাখার কৌশল-১ঃ

জেলা গুলো মনে রাখার উপায়পঞ্চলাল ঠাকুর দিনার বিয়ের জন্য নীল রংয়ের কুড়িটা গাই দান করলেন।

ব্যাখ্যাপঞ্চ- পঞ্চগড়,  লাল- লালমনিরহাট, ঠাকুর- ঠাকুরগাঁও, দিনার- দিনাজপুর, নীল- নীলফামারী, রংয়ের- রংপুর, কুড়িটা- কুড়িগ্রাম, গাই- গাইবান্ধা।

মনে রাখার কৌশল-২ঃ

জেলা গুলো মনে রাখার উপায়পঞ্চ ঠাকুর লাল নীল রং এর কুড়িটি গাই দিল।
পঞ্চ-পঞ্চগড়, ঠাকুর – ঠাকুরগাঁও, লাল-  লালমনিরহাট, নীল-  নীলফামারী, রং –  রংপুর , কুড়িটি – কুড়িগ্রাম , গাই-  গাইবান্ধা, দিল -দিনাজপুর।

সিলেট বিভাগের জেলা সমূহের নামঃ 

বিভাগ- সিলেট, প্রতিষ্ঠিত হয়- ১৯৯৫সালে। জেলা- ৪টি।

 সিলেট বিভাগের চারটি জেলা- সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ।

মনে রাখার কৌশল-১ঃ

জেলা গুলো মনে রাখার উপায়সিলেটের হবি মৌলভীর সুনাম অনেক।

ব্যাখ্যাসিলেটের- সিলেট, হবি- হবিগঞ্জ,  মৌলভীর- মৌলভীবাজার,  সুনাম- সুনামগঞ্জ।

মনে রাখার কৌশল-২ঃ

জেলা গুলো মনে রাখার উপায়মৌলভীর হবিগঞ্জে সুনাম ছিল।
ব্যাখ্যা: মৌলভীবাজার,  হবিগঞ্জ , সুনামগঞ্জ,  সিলেট।

রাজশাহী বিভাগের জেলা সমূহের নামঃ 

বিভাগ- রাজশাহী,  প্রতিষ্ঠিত হয়- ১৮২৯সালে।  জেলা- ৮টি।

রাজশাহী বিভাগে আটটি জেলা হল- বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ , নাটোর, পাবনা, জয়পুরহাট।

মনে রাখার কৌশল-১ঃ

জেলা গুলো মনে রাখার উপায়বগুড়ার নবাব সিরাজ শাহ নও মাস যুদ্ধ করে নাটকীয়ভাবে পাবনা জয় করলেন।

ব্যাখ্যাবগুড়ার- বগুড়া, নবাব- চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজ- সিরাজগঞ্জ, শাহ- রাজশাহী, নও- নওগাঁ , মাস- যুদ্ধ- করে নাটকীয়ভাবে- নাটোর, পাবনা- পাবনা, জয়- জয়পুরহাট।

মনে রাখার কৌশল-২ঃ

জেলা গুলো মনে রাখার উপায়চাপাবাজ নাসির।

ব্যাখ্যাচাপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া,  জয়পুরহাট, নওগা,  নাটোর,  সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী।

ঢাকা বিভাগের জেলা সমূহের নামঃ 

বিভাগ- ঢাকা, প্রতিষ্ঠিত হয়-১৮২সালে। জেলা-১৩টি।

ঢাকা বিভাগের জেলাগুলো হলো- মানিকগঞ্জ মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর গাজীপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, শরীয়তপুর, ঢাকা, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর।

মনে রাখার কৌশল-১ঃ

জেলা গুলো মনে রাখার উপায়মানিক মুন্সি আর ফরিদ গাজী রাজার নিকট প্রতিবাদ জানালো যে,গোপাল নারায়ণ সাহেব নরসিংহের ন্যায় শরিয়ত অমান্য করে ঢাক ঢোল পিটিয়ে টাঙ্গাইলের এক কিশোরকে মাদারী বলে গালি দিয়েছে।

ব্যাখ্যা মানিক- মানিকগঞ্জ,  মুন্সি- মুন্সিগঞ্জ, ফরিদ- ফরিদপুর, গাজী- গাজীপুর, রাজার- রাজবাড়ী, গোপাল- গোপালগঞ্জ, নারায়ণ- নারায়ণগঞ্জ, নরসিংহের- নরসিংদী,  শরিয়ত- শরীয়তপুর,  ঢাক- ঢাকা, ঢোল টাঙ্গাইলের- টাঙ্গাইল, কিশোরকে- কিশোরগঞ্জ, মাদারী- মাদারীপুর।

মনে রাখার কৌশল-২ঃ

জেলা গুলো মনে রাখার উপায়কিগো শরিফের মামু রানা গাজীর টাকাই সিন্ধুকে।।
ব্যাখ্যাকিশোরগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, শরিয়তপুর, ফরিদপুর, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ,  মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ি, গাজীপুর, টাংগাইল, নারায়ণগঞ্জ।

ময়মনসিং বিভাগের জেলা সমূহের নামঃ 

বিভাগ- ময়মনসিংহ,  প্রতিষ্ঠিত হয়- ২০১৫সালে । জেলা- ৪টি।

ময়মনসিংহ জেলার সংখ্যা চারটি- নেত্রকোণা, জামালপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর।

মনে রাখার কৌশল-১ঃ

জেলা গুলো মনে রাখার উপায়নেএকোনার জামাল সাহেব নয়মন শিং মাছে ৯ শের বেশি দিল।

ব্যাখ্যানেএকোনার- নেত্রকোণা, জামাল- জামালপুর, নয়মন শিং- ময়মনসিংহ,  শের-শেরপুর।

মনে রাখার কৌশল-২ঃ

জেলা গুলো মনে রাখার উপায়: নেত্রকোনার জাম শেরা।
ব্যাখ্যানেত্রকোনা, জামালপুর , ময়মনসিংহ , শেরপুর।

খুলনা বিভাগ বিভাগের জেলা সমূহের নামঃ 

বিভাগ- খুলনা,  প্রতিষ্ঠিত হয়- ১৯৬০সালে। জেলা- ১০টি।

খুলনা বিভাগের ১০ টি জেলার নাম- সাতক্ষীরা, মাগুরা, বাগেরহাট, মেহেরপুর, খুলনা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, যশোর।

মনে রাখার কৌশল-১ঃ

জেলা গুলো মনে রাখার উপায়সাত সন্তানের মা বাঘিনী কন্যা মেহেরুন্নেছা চুল খুলে ঝিনুক ডাঙ্গায় বসে নর প্রেমে মজিয়া লোকের কুৎসায় আপনার যশ খ্যাতি হারাইল।

ব্যাখ্যাসাত- সাতক্ষীরা,  মা- মাগুরা, বাঘিনী- বাগেরহাট, মেহেরুন্নেছা- মেহেরপুর,  খুলে- খুলনা,  ঝিনুক- ঝিনাইদহ, ডাঙ্গায়- চুয়াডাঙ্গা,  নর- নড়াইল, কুৎসায়- কুষ্টিয়া,  যশ- যশোর।

মনে রাখার কৌশল-২ঃ

চট্টগ্রাম বিভাগের জেলা সমূহের নামঃ 

বিভাগ- চট্টোগ্রাম, প্রতিষ্ঠিত হয়- ১৮২৯সালে। জেলা-১১টি।

চট্টগ্রাম বিভাগের জেলা কয়টি জেলা রয়েছে- চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া,  ফেনী, কক্সবাজার, লক্ষ্মীপুর, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান রাঙ্গামাটি, চাঁদপুর , নোয়াখালী, কুমিল্লা।

মনে রাখার কৌশল-১ঃ

জেলা গুলো মনে রাখার উপায়গ্রামের ব্রাহ্মণ ফেনী বাজারের লক্ষী দেবীকে ছড়ি হাতে বললেন যে,বান্দর আবার রাঙা চাঁদ হয় নাকি হোক সে নোয়া কিংবা পুরাতন,এসবই কু-কথা।

ব্যাখ্যাগ্রামের- চট্টগ্রাম,  ব্রাহ্মণ- ব্রাহ্মণবাড়িয়া,  ফেনী- ফেনী,  বাজারের- কক্সবাজার, লক্ষী- লক্ষ্মীপুর,  ছড়ি- খাগড়াছড়ি, বান্দর- বান্দরবান, রাঙা- রাঙ্গামাটি, চাঁদ- চাঁদপুর, নোয়া- নোয়াখালী, কু-কথা- কুমিল্লা ।

মনে রাখার কৌশল-২ঃ

জেলা গুলো মনে রাখার উপায়ব্রাহ্মণ কুমিল্লার লক্ষীকে চাঁদে নেয় ফিরনী চকবার খায়।।।
ব্যাখ্যাব্রাহ্মণবাড়িয়া,  কুমিল্লা , লক্ষীপুর,  চাঁদপুর, নোয়খালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবন,  রাঙ্গামাটি,  খাগরাছড়ি।

বরিশাল বিভাগের জেলা সমূহের নামঃ 

বিভাগ- বরিশাল,  প্রতিষ্ঠিত হয়- ১৯৯৩সালে। জেলা- ৬টি।

বরিশাল বিভাগে মোট  টি জেলা রয়েছে – পিরোজপুর, বরিশাল, বরগুনা ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, ভোলা।

মনে রাখার কৌশল-১ঃ

জেলা গুলো মনে রাখার উপায়পরীর ২ বর ঝাল পটেটো ভালোবাসে

ব্যাখ্যাপরীর- পিরোজপুর, ২ বর- বরিশাল, বরগুনা, ঝাল- ঝালকাঠি, পটেটো- পটুয়াখালী, ভালোবাসে-ভোলা।

মনে রাখার কৌশল-২ঃ

জেলা গুলো মনে রাখার উপায়পপির ২(বর) ঝাল ভালোবাসে।।
ব্যাখ্যাপটুয়াখালী, পিরোজপুর,  বরগুনা , বরিশাল, ঝালকাঠী, ভোলা।

উপরের নিয়মের দ্বারা অনেকেরই মনে নাও থাকতে পারে কিন্তু নিচে আরও একটি নিয়ম বা কৌশল দেয়া হল যা একটু ভিন্ন রকম কিন্তু ১০০ ভাগ কর্যকরী।

৬৪ জেলার নাম মনে রাখার কৌশল-বাংলা নোট বই
৬৪ জেলার নাম মনে রাখার কৌশল

চলুন তাহলে একটা ভিন্ন ধর্মী কৌশলে শিখে নেই কিভাবে ৬৪ জেলার নাম মনে রাখবেন খুব সহজেই! 

বাংলাদেশের ৬৪ জেলার নাম মনে রাখার সহজ উপায়ঃ অব্যর্থ কৌশল বা টেকনিক

এই নিয়মে আপনি যেকোনো পরীক্ষায় বা প্রতিযোগীতায় যেকোন পরিস্থিতিতে সব জেলার নাম বাচ্চাদের  মত করে মনে করতে পারবেন।

১. পুরযুক্ত ১২টি জেলা:
চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, মেহেরপুর, পিরোজপুর, গাজীপুর, শরিয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুর, শেরপুর, জামালপুর, দিনাজপুর, রংপুর।

২. গঞ্জযুক্ত ৯টি জেলা:
সিরাজগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ।

৩. শেষে আ-কারযুক্ত ১৫টি জেলা:
কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বগুড়া, পাবনা, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, নওগাঁ, কুষ্টিয়া, মাগুরা, ভোলা, খুলনা, বরগুনা, ঢাকা, গাইবান্ধা, নেত্রকোণা।

৪. হাটযুক্ত ৩টি জেলা:

জয়পুরহাট, বাগেরহাট, লালমনিরহাট।

৫. বাজারযুক্ত ২টি জেলা:

কক্সবাজার, মৌলভীবাজার।

৬. গ্রামযুক্ত ২টি জেলা:

চট্টগ্রাম, কুড়িগ্রাম।

৭. খালীযুক্ত ২টি জেলা:

নোয়াখালী, পটুয়াখালী।

৮. আইলযুক্ত ২টি জেলা:

নড়াইল, টাঙ্গাইল।

৯. শেষে ই-কারযুক্ত ৩টি জেলা:

রাঙ্গামাটি, ঝালকাঠি, খাগড়াছড়ি।

১০. শেষে ঈ-কারযুক্ত ৫টি জেলা: (খালী ছাড়া)

ফেনী, রাজশাহী, নরসিংদী, রাজবাড়ী, নীলফামারী।

১১. শেষে কারবিহীন ৯টি জেলা: (পুর, বাজার, গঞ্জ, হাট, গ্রাম, আইল ছাড়া)

বান্দরবান, নাটোর, যশোর, ঝিনাইদহ, সিলেট, বরিশাল, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, ময়মনসিংহ।

চাকরি প্রস্তুতি করা হলো চাকরি অর্জনের সুযোগ বৃদ্ধির জন্য যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন করা হয়। চাকরি প্রস্তুতি করতে ব্যাপক যত্ন নিতে হয়, যাতে নিজের সময়, কাজের দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং দক্ষতা প্রদর্শনের সুবিধার মাধ্যমে পাওয়া যায়। এই নিবন্ধে আমরা চাকরি প্রস্তুতি প্রক্রিয়াটি একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা করব।

নেটওয়ার্কিং ও সাম্প্রতিক সংযোগ

মনে রাখবেন, চাকরি প্রস্তুতি ব্যক্তিগত ও পেশাগত উন্নতির একটি অবিচ্ছিন্ন অংশ। প্রস্তুতিশীলতা, উপযোগিতা, ও নির্ধারিত লক্ষ্য সাধারণত চাকরির সফলতা পেতে সাহায্য করে। আপনি এই প্রস্তুতি করে আপনার আগ্রহ প্রদর্শন করতে পারেন ও চাকরি সংক্রান্ত সুযোগগুলি উপভোগ করতে পারেন।

চাকরি প্রস্তুতি প্রক্রিয়াটি নিম্নের ধাপগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব:

১. স্ব-মূল্যায়ন ২. গবেষণা ৩. লক্ষ্য স্থাপন ৪. দক্ষতা উন্নয়ন ৫. রেজিউমি এবং কভার লেটার ৬. নেটওয়ার্কিং ৭. সাক্ষাৎকার প্রস্তুতি ৮. মক সাক্ষাৎকার ৯. কোম্পানি গবেষণা ১০. হালনাগাদ থাকুন ১১. অনলাইন উপস্থিতি ১২. স্বাস্থ্য ও যত্ন

আসুন এখন আমরা প্রতিটি ধাপকে বিস্তারিত আলোচনা করি:

১. স্ব-মূল্যায়ন: চাকরি প্রস্তুতির প্রথম ধাপ হলো নিজের মূল্যায়ন করা। আপনার কাজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, শক্তিসম্পন্নতা, এবং আগ্রহ সম্পর্কে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। আপনি যে কাজগুলিতে ভালো আছেন তা ধরুন। নিজের দক্ষতা, দুর্বলতা, ও আগ্রহ নির্ধারণ করে আপনি যে ধারণা পাচ্ছেন তা স্পষ্ট করুন। স্ব-মূল্যায়ন করা আপনাকে সঠিক পথ নির্দেশনা দেয়ে চাকরি প্রস্তুতি প্রক্রিয়ার জন্য।

২. গবেষণা: চাকরি প্রস্তুতি করতে আপনাকে বিভিন্ন শিল্প, প্রতিষ্ঠান, এবং চাকরির পদ পর্যবেক্ষণ করা উচিত। নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং পদগুলি সন্ধান করুন এবং তাদের জব বিবরণ এবং প্রয়োজনীয়তা পর্যবেক্ষণ করুন। আপনি ইন্টারনেট, নিউজপেপার, ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার, এবং প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। এছাড়াও, সম্প্রতির চাকরি বাজার অবস্থা, ট্রেন্ড এবং প্রতিযোগিতার সম্ভাব্য প্রশ্নগুলি জানা উচিত।

৩. লক্ষ্য স্থাপন: একটি পরিকল্পনা ছাড়া কোন পরিচালনা সম্ভব নয়। চাকরি প্রস্তুতি করার জন্য আপনাকে একটি স্পষ্ট লক্ষ্য স্থাপন করতে হবে। যেকোনো পেশায় লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এবং প্রাথমিক, মাঝকালীন, এবং দীর্ঘস্থায়ী লক্ষ্যগুলি পরিচালনা করার উপযোগী পরিকল্পনা তৈরি করুন। লক্ষ্য নির্ধারণ করলে আপনি স্পষ্টতার সাথে প্রস্তুতি করতে পারবেন এবং আপনার পরিকল্পনার অনুযায়ী ক্রিয়াশীলতা গ্রহণ করতে পারবেন।

৪. দক্ষতা উন্নয়ন: চাকরি প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আপনার দক্ষতা উন্নতি। নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা উন্নত করতে আপনি কোর্স, ট্রেনিং, ও সার্টিফিকেট প্রাপ্ত করতে পারেন। নতুন ক্ষেত্রে পরিচিত হওয়ার জন্য প্রকাশনা, সেমিনার, ও ওয়ার্কশপের মতো সুযোগগুলি অনুশন করতে পারেন। যোগ্যতা প্রাপ্তি এবং বিদেশে পরিচালিত কোর্সগুলি অনুশন করলে আপনি আকর্ষণীয় প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা সংগ্রহ করতে পারেন।

৫. রেজিউমি এবং কভার লেটার: রেজিউমি এবং কভার লেটার আপনার প্রস্তুতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার রেজিউমি ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, ও দক্ষতার সংক্ষিপ্ত সম্পর্কে পরিচিতি দিতে হবে। এটি আপনার চাকরির আবেদনপত্রের অংশ হবে, সুতরাং সঠিক ভাবে তথ্য প্রদান করা প্রয়োজন। কভার লেটার আপনার আগ্রহ প্রকাশ করবে ও কাজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করবে।

৬. নেটওয়ার্কিং: নেটওয়ার্কিং চাকরি প্রস্তুতির একটি মাধ্যম যা আপনাকে সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের সাথে যুক্ত করবে। আপনি বেশিরভাগ জব অফার নিয়ে থাকলেও নেটওয়ার্কিং এর মাধ্যমে নতুন সম্ভাব্য কর্মসংস্থানে পৌঁছে যাবেন। পেশাগত সম্পর্ক ও প্রশাসনিক কর্মসংস্থানে আপনার নেটওয়ার্ক পরিচালনা করুন। সামাজিক মাধ্যম, পেশাগত সম্পর্ক, ও কর্মসংস্থানের ইভেন্টে অংশ নিন এবং কর্মসংস্থানের সাথে যোগাযোগ করুন।

৭. সাক্ষাৎকার প্রস্তুতি: সাক্ষাৎকার সময়ে আপনাকে প্রস্তুত হতে হবে যেন আপনি সঠিক উত্তর প্রদান করতে পারেন এবং আপনার যোগ্যতা ও দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারেন। আপনি সাক্ষাৎকারের জন্য প্রশ্ন-উত্তর সেশনে অংশ নিতে পারেন এবং আপনার কাছে প্রতিদ্বন্দ্বী নিয়মিত প্রশ্নগুলি করতে পারেন। সাক্ষাৎকার প্রস্তুতি করার জন্য আপনি আগের অভিজ্ঞতা, সঠিক উত্তরের প্রয়োজনীয়তা এবং আপনার প্রদর্শিত কর্মসংস্থানের উপর ভিত্তি করে প্রশ্ন তৈরি করতে পারেন।

৮. মক সাক্ষাৎকার: মক সাক্ষাৎকার প্রস্তুতি একটি মাধ্যম যা আপনাকে প্রতিষ্ঠানের নির্দেশিকা, পদ বিবরণ, ও পদস্থ সমস্যার সাথে পরিচিত করে তুলবে। মক সাক্ষাৎকারের জন্য আপনি আপনার উদ্যেশ্য, প্রশ্ন-উত্তর, ও আপনার যোগ্যতা সম্পর্কে তথ্য প্রদান করতে হবেন। আপনি এটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের পদের প্রতিস্থাপন করতে পারেন এবং আপনার দক্ষতা ও স্থায়িত্ব প্রদর্শন করতে পারেন।

৯. মক সাক্ষাৎকার: মক সাক্ষাৎকার করা চাকরির প্রস্তুতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। এটি আপনাকে সাক্ষাৎকারিক দক্ষতা অভিজ্ঞতা অর্জন করতে সাহায্য করবে। আপনি ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং সেন্টার, অনলাইন সম্পদ ব্যবহার বা একজন বন্ধু বা পরিবারের সদস্যের সাহায্যে মক সাক্ষাৎকার করতে পারেন। এটি আপনাকে সাধারণ সাক্ষাৎকার প্রশ্নের পরিচিতি প্রদান করবে, আপনার যোগাযোগ ও প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট দক্ষতা উন্নত করবে এবং আপনাকে আসল সাক্ষাৎকারের সময় আত্মবিশ্বাস দেবে।

১০. গবেষণা এবং কোম্পানি জ্ঞান: চাকরির প্রস্তুতিতে আপনার আবেদন করছেন প্রতিষ্ঠানটি বা সংগঠনটি সম্পর্কে ভালভাবে গবেষণা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ওয়েবসাইট, প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য, মানদণ্ড, উৎপাদন বা পরিষেবা, সাম্প্রতিক খবর এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট তথ্য নিয়ে অনুসন্ধান করুন। এটি আপনাকে আবেদনপত্র, কাভার লেটার এবং সাক্ষাৎকারের উত্তরগুলি প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যের সাথে সাঙ্গঠিত করতে সাহায্য করবে এবং আপনার আগ্রহ ও উত্সাহ প্রদর্শন করতে সাহায্য করবে।

১১. পেশাদারী ইমেজ: পেশাদারী ইমেজ সংরক্ষণ চাকরির প্রস্তুতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি আপনার সঠিক ভাবে প্রদর্শন করা উচিত এবং সাক্ষাৎকারের জন্য উপযুক্তভাবে পোশাক পরিধান করা উচিত। আপনার সামাজিক মাধ্যম প্রোফাইলগুলি সম্পাদন করে নিজের সঠিক এবং পেশাদারী ইমেজ প্রদর্শন করবেন, যেন সম্ভাব্য কর্তৃপক্ষরা আপনার সাক্ষাৎকারে প্রোফাইল দেখে সম্প্রতি আপডেট করা ইমেজ দেখতে পারেন।

১২. অবিরত শিক্ষা এবং সমষ্টির সঙ্গীতকরণ: চাকরির প্রস্তুতি একটি অবিরত শিক্ষা এবং সমষ্টির সঙ্গীতকরণের প্রক্রিয়া। বই, অনলাইন কোর্স, ওয়েবিনার, কার্যশালা বা বিশেষভাবে আয়োজিত অধ্যায়গুলি এর মাধ্যমে আপডেট হয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানিক প্রয়োগ, উন্নতমানের প্রয়োজনীয়তা এবং নতুন প্রয়োগগুলি সম্পর্কে আপডেট হয়ে থাকা অধ্যয়নের মাধ্যমে থাকা খুবই জরুরী। শিখার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত অনুসন্ধানের মাধ্যমে সাথে পেশাগত গতিময়তা এবং বিপর্যয়ের পরিবর্তনের প্রতি আপনার সমন্বয় প্রদর্শন করুন।

১৩. সময় পরিচালনা ও সংগঠন: চাকরির প্রস্তুতির জন্য কার্যকর সময় পরিচালনা এবং সংগঠনের দক্ষতা অত্যন্ত জরুরী। গবেষণা করুন, নেটওয়ার্কিং করুন, আপনার রিজিউমে এবং কাভার লেটার আপডেট করুন, এবং সাক্ষাৎকারের দক্ষতা অনুশীলন করুন এই সবকিছুর জন্য সময় নির্ধারণ করতে একটি সময়সূচী তৈরি করুন। লক্ষ্যগুলি নির্ধারণ করুন এবং কাজগুলির প্রাথমিকতা সাজানোর জন্য কার্যকর পরিক্রমা নির্ধারণ করুন যাতে আপনি কেন্দ্রিত থাকেন এবং চাকরি খুঁজতে সময়ে আগ্রসর থাকেন।

১৪. সক্ষম থাকুন এবং অবিচলিত থাকুন: চাকরির প্রস্তুতি কখনই সহজ নয় এবং কার্যক্রমটির মধ্যে প্রতিবন্ধক বা বিপর্যয় সামনে আসতে পারে। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সক্ষম থাকা, গ্রোথ মাইন্ডসেট বজায় রাখা এবং চাকরির অনুসন্ধানে আপনার দক্ষতা ও যোগ্যতা উন্নত করা। অস্বীকার গ্রহণ করার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করুন এবং সম্ভাব্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আপনার অনুপ্রাণিত এবং সক্রিয় স্থানান্তর দেখানোর চেষ্টা করুন। সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত হয়ে উঠুন এবং আপনার দক্ষতা, জ্ঞান ও আচরণ প্রমাণ করুন।

১৫. নেটওয়ার্কিং ও সাম্প্রতিক সংযোগ: চাকরি প্রস্তুতির জন্য নেটওয়ার্কিং এবং সাম্প্রতিক সংযোগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার পেশাগত সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে নেটওয়ার্কিং করুন, যাতে আপনি বিভিন্ন পেশাদার কর্মক্ষেত্রে মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। কর্মদাতারা একটি সক্ষম ও আদর্শ উম্মুক্ত কর্মীর সন্ধানের জন্য সাধারণত পেশাদার মানুষের উপর নির্ভর করে। সাম্প্রতিক সংযোগগুলি রক্ষা করুন এবং কর্মদাতারা এবং পেশাগত সম্পর্কের জন্য সাম্প্রতিক তথ্য ও সংযোগ অনুসন্ধান করুন। বিভিন্ন পেশার সংগঠনে সদস্য হওয়া, কর্মদাতাদের সাথে বিভিন্ন ইভেন্টে যোগ দিয়ে কর্মদাতা পরিচয় করার চেষ্টা করুন এবং ব্যাপক পেশাদার নেটওয়ার্ক গড়ুন।

১৬. সহায়তা এবং নির্দেশিকা চাইকে অনুরোধ করুন: চাকরি প্রস্তুতি সময়ে সহায়তা এবং নির্দেশিকা চাইকে খুঁজে নিন। যদি আপনি কোনও প্রশ্ন, সন্দেহ, বা আপনার প্রস্তুতি পরিক্ষার জন্য নির্দেশ প্রয়োজন হয়, তাহলে নিকটস্থ পরিচিত ব্যক্তিকে প্রশ্ন করুন বা কর্মদাতার সম্পর্কের মাধ্যমে সাহায্যের জন্য অনুরোধ করুন। যেমনঃ

  • সম্প্রতিক অভিজ্ঞ কর্মীদের কাছে পরামর্শ চান যারা আপনার ইচ্ছামত পেশাগত ক্ষেত্রে সফলতার সাথে কাজ করেছেন।
  • আপনার প্রতিষ্ঠানিক সংগঠনের বিভিন্ন কর্মীদের কাছে সাহায্য চান যারা আপনার প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদে কাজ করেন।
  • পেশাদার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সাহায্য ও নির্দেশিকা চান। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম বা পেশাগত ওয়েবসাইটে যোগ দিয়ে সম্পর্ক করুন এবং অনলাইন কমিউনিটিতে পোস্ট করুন যাতে অন্যেরা আপনার জন্য সহায়তা ও নির্দেশিকা প্রদান করতে পারেন।

সহায়তা এবং নির্দেশিকা অনুসন্ধান করার মাধ্যমে আপনি আরও নতুন ধারণা এবং প্রেরণা পেতে পারেন। আপনার চাকরি প্রস্তুতির পথে অভিজ্ঞ ও দক্ষ ব্যক্তিদের সহায়তা ও পরামর্শ আপনাকে সঠিক দিকে নিয়ে যাবে এবং আপনার সাফল্যের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করবে।

কিভাবে চাকরির প্রস্তুতি নিবেন

সহজে ইংরেজি বেসিক গ্রামার শিক্ষা-Learning Basic English Grammar Easily। Letter & Alphabet